Image Not Found!
ঢাকা   ২২ জানুয়ারী ২০২২ | ৯ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

  ঝিকমারি খাল থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার (95)        কেকে’র চর ইউনিয়নে ভূয়া কাজির দৌরাত্ব, বৃদ্ধি পেয়েছে বাল্য বিবাহ (95)        ঝিনাইগাতীতে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার (95)        শেরপুরে বিএনএ সভাপতি কর্তৃক শেরপুর পৌরসভা'কে  কোভিড-১৯ সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান (95)        ঝিনাইগাতীতে আগুনে  পুড়ে এক পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই! (95)        ঝিনাইগাতী বদ্ধভূমি থেকে মাথার খুলি কংকাল উদ্ধার (95)        ঝিনাইগাতীতে বিনাচিকিৎসায় ৮বছর ধরে শিকলে বন্দি মানুষিক ভারসাম্যহীন আখি  (95)        নন্নী থেকে সমশ্চুড়া গ্রামের তক্ষক ব‍্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব (95)        শীতার্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলো নালিতাবাড়ীর ইউএফএইচ সংস্থা (95)        বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তি চেয়ে না'বাড়ীতে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ (95)      

ঝিনাইগাতীতে বিএনপি পরিবারের ছেলে নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান||এবারও দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা!

মনোয়ার উল্যাহ ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি শেরপুর :শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম আবুল হোসাইনের পুত্র জহুরুল হক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এবারও নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। 


জহুরুল হক সর্ম্পকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর সেনাবাহিনীতে চাকুরি শেষে ১৯৯৯ সালে তিনি অবসরে যান। তার প্রায় পুরো পরিবারই বিএনপিপন্থী হলেও গত ইউপি নির্বাচনের আগে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। এরপর সেই দলীয় পদ ব্যবহার করে কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান এবং দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত হয়ে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেন। 


বর্তমান কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির আতাউর রহমান জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জহুরুল হকের বাবা পুলিশ সদস্য মরহুম আবুল হোসাইন ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আমৃত্যু কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন ধানশাইল ও কাংশা একত্রে ইউনিয়ন ছিল। সে সময়ে আব্দুল হান্নান ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। সাবেক সাধারণ সম্পাদক হান্নানের সাথে কথা হলে তিনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আবুল হোসাইনের  পরিবারের  অন্যান্যরা  বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। 


স্থানীয় সূত্র জানায়, কাংশা ইউপির চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করার পর থেকেই তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।  সেইসাথে জড়িয়ে পড়েন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে। তার বিরুদ্ধে গত পাঁচ বছরে একাধিক অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে জমা হলেও কোনটিই আলোর মুখ দেখেনি। নেওয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত তহবিলের ১০ টাকা কেজি চালের ৫৫টি কার্ড ডিলারের সহায়তায় ৩ বছর আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এলজিএসপি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ নিয়ম বহির্ভূতভাবে করার প্রতিবাদে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তৎকালীন ইউপি সচিব সৈয়দ জামান। এছাড়া পরিষদের সকল সদস্যারা একযোগে একাধিকবার চেয়ারম্যানকে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলেও তা কোন কাজে আসেনি।  তার বিরুদ্ধে সাদা মিয়া নামে এক গ্রাম পুলিশকে মারপিট করে পঙ্গু বানানোর অভিযোগ রয়েছে। সাদা মিয়া প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সরকারি চুরিকৃত চাল আড়াল করতে সামান্য বিলম্ব হওয়ার অপরাধে চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেন। সহায়-সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করলেও এখনও সুস্থ্য জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। এ বিষয়েও ইউএনও বরাবর অভিযোগ দিলে সেটিরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। তার এসব কর্মকাণ্ডের জন্য এখন কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

এ প্রসঙ্গে কাংশা ইউনিয়নের জনগন ও আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড, ইউনিয়নের দলীয় নেতা কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে , বিগত ইউপি নির্বাচনে আমরা দল থেকে পরিশ্রম করে জনগণকে বুঝিয়ে ভোট নিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য কোনো কাজকর্ম করেননি। আর দলীয় লোকজন ও জনসাধারণের সাথে আচার-আচরণও ভালো করেননি। দলের লোক, তাই আমারা কিছু বললে তা আমাদের উপরই আসে। কিন্তু এখন ক্ষমতা শেষ। আমরা চাই দল একজন ভালো লোককে মনোনয়ন দেবে, যে দলের জন্য এবং জনগণের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবে। বর্তমান চেয়ারম্যান জহুরুলকে যেনো নৌকার মনোনয়ন না দেওয়া হয়। বর্তমান চেয়ারম্যান জহুরুল হককে এবার দল থেকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্ঘাত ফেল করবেন।

কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হককে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ,জানতে চাইলে তিনি সুকৌলে তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমার জনপ্রিয়তা সইতে না পেরে আমার প্রতিপক্ষরা এসব অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমি আমার ইউনিয়নে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, তাই এবারো দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাঈম জানান, দল থেকে যারা মনোনয়ন চাইবে, তাদের প্রত্যেকের নামের তালিকা ঢাকায় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানো হবে এবং তা হবে স্বচ্ছ। যদি কারোর বিরুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা তা মন্তব্যের কলামে লিখবো। কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার স্থানীয়ভাবে কারোরই নেই। মনোনয়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মনোনয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!