Image Not Found!
ঢাকা   রবিবার ১৭ জানুয়ারী ২০২১ | ৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

  এত কম বয়সী শিশুরাও হত্যায় জড়িত (2)        শেরপুর পৌরসভার মেয়র মনোনয়নপ্রত্যাশী আ’লীগ নেতা আধার কেন্দ্রেও আলোচনায় (95)        ঝিনাইগাতীতে দুই ট্রাকের মুখো-মুখি সংঘর্ষে আহত ২ (95)        শেরপুরে গণকবরের স্মৃতি ধরে রাখতে কার্যক্রম শুরু করলেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব (94)        What is Lorem Ipsum? (3)        জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা শেরপুর জেলা ইউনিটের নয়া কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। (94)        বাধ্য হয়ে বাপ-ছেলের যৌন নির্যাতন মেনে নেন জোছনা (2)        শেরপুর অ্যাথলেটিক্স ও গ্রামীণ খেলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত (94)        বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হতদরিদ্র খাদিজা বেগম।। (94)        গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী রফিকুল ইসলাম আধার ।। (95)      

রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের দাবিতে সোচ্চার সবাই

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজশাহীতেও গড়ে উঠেছিল দুর্বার আন্দোলন। রাজপথে ঝরেছে রক্ত। ঢাকায় ভাষার জন্য শহিদ হয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউর। বাংলাও রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শহরে এখনও নেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।

এখন এই শহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার স্থাপনের জন্য সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সবাই। আগামী মাতৃভাষা দিবসের আগেই পরিত্যক্ত রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের জায়গায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য আবার রাজপথে নামছেন মানুষ। পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাও এ দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।

বুধবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা। যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা রাজপথেই থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই ঘোষণা দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজশাহীবাসী চায় সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত স্থানেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হোক। আমরা সেখানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিয়েই ঘরে ফিরবো। আমরা মেয়র ও সংসদ সদস্যকে নিয়ে ঢাকায় যাবো। প্রয়োজনে ঢাকায় থাকবো। বীর মুক্তিযোদ্ধারা যখন রাস্তায় নেমেছে তখন কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠা হবেই। প্রয়োজনে আমরা নিজেরা সেখানে গিয়ে শহিদ মিনারের স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করব্।ো

মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান রাজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহানগর কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, ন্যাপ কমিউনিষ্ট পার্টি গেরিলা বাহিনীর জেলা সমন্বয়ক অ্যাড. সাইদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক চেীধুরী, সাবেক মহানগর ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম, সন্তান কমান্ডের মীর ইস্তেয়াক আহম্মেদ লিমন,বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম, নাট্যজন ব্যক্তিত্ব কারারুল্লাহ সরকার কামাল প্রমুখ।

একই দিন, একই দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী মহানগর শাখা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে শহীদদের স্মরণে রাজশাহী নগরীতেই দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিনেও রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। আমরা অনেক আগেই রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। এখন হয়তো সেই দাবি জোড়ালোভাবে আসছে। তবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক-এটি আমাদের প্রাণের দাবি।

বক্তারা আরও বলেন, রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ- এদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ও স্মৃতিতে সমৃদ্ধ শিক্ষানগরী রাজশাহী। অথচ ঐতিহ্য বহনকারী এমন একটি শহরে শহীদদের স্মরণে কোন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার না থাকা যেমন ব্যর্থতা, তেমনই দুঃজনক। ঢাকায় যেমন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার রয়েছে, তেমনি রাজশাহীতেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান মহানগর ছাত্রমৈত্রীর নেতারা।

মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ওহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জুয়েল খান, রাজশাহী জেলার সভাপতি মনিরুল ইসলাম, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় সরকার, রাজশাহী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, বোয়ালিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান। মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক আরাফাত এইচ মারুফ। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনিরুদ্দীন পান্না, নাজমুল করিম অপু, মনিরুজ্জামান মনির, মহানগর সদস্য অসিত পাল প্রমুখ।

এর আগে গত শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের দাবিতে প্রথম মাঠে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত ভবনের সামনের সড়কে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মঙ্গলবার একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রাজশাহীর সভাপতি ও ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন।

আগের দিন সোমবার পূর্বঘোষিত রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত ভবনের জায়গায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ। সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সেই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আমরা একমত পোষণ করছি। সোনাদিঘি সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত ভবনের জায়গায় রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ নির্মাণের ঘোষণা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আমরা জানতে পেরেছি, সার্ভে ইনস্টিটিউটের জায়গায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এই অপচেষ্টা আমরা বাস্তবায়ন হতে দিবো না। সেখানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারই হতে হবে। অন্য কিছু মেনে নেয়া হবে না।